RU Admission: বিভাগ পছন্দক্রম (Subject Choice) শুরু, জানুন জরুরি নির্দেশনা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাদের জন্য চূড়ান্ত মাহেন্দ্রক্ষণ উপস্থিত। আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সব ইউনিটের বিভাগ পছন্দক্রম পূরণ প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের সর্বশেষ আপডেটগুলো দেখছিলাম, তখন স্পষ্ট বুঝতে পারলাম যে এবারের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মেধা তালিকার ভিত্তিতে নিজের পছন্দের বিষয়টি পেতে হলে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে। বিশেষ করে ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ ইউনিটের প্রার্থীদের জন্য এটি একটি বাধ্যতামূলক ধাপ, যা সরাসরি তাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নির্ধারণ করবে।
এই লেখায় যা জানবেন:
- বিভাগ পছন্দক্রম পূরণের সময়সীমা ও পদ্ধতি।
- সাবজেক্ট চয়েস দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক শর্তাবলি।
- নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চয়েস না দিলে পরিণাম কী হবে।
- ভর্তি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপসমূহ।
বিভাগ পছন্দক্রম পূরণের সময়সীমা (Timeline)
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সাবজেক্ট চয়েস প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে। এটি চলবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীরা রাবির অফিশিয়াল অ্যাডমিশন ওয়েবসাইটে লগইন করে তাদের চয়েস লিস্ট সাবমিট করতে পারবেন। আপনারা যারা সঠিক লিংকের সন্ধান করছেন, তারা সরাসরি RU Admission Official Website ভিজিট করতে পারেন। এছাড়া ভর্তি সংক্রান্ত সর্বশেষ খবরের জন্য প্রথম আলো এর শিক্ষা পাতা নিয়মিত অনুসরণ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
পছন্দক্রম পূরণের ক্ষেত্রে জরুরি শর্তাবলি
রাবি প্রশাসন থেকে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের জন্য কিছু কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমি এই শর্তগুলো বিশ্লেষণ করে সহজভাবে নিচে তুলে ধরছি:
১. বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণ: কোনো উত্তীর্ণ প্রার্থী যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিভাগ পছন্দক্রম ফরম পূরণ না করেন, তবে সংশ্লিষ্ট ইউনিটে তার ভর্তির আর কোনো সুযোগ থাকবে না। অর্থাৎ, পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেলেও সাবজেক্ট চয়েস না দিলে আপনার প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যাবে।
২. ভর্তির বাধ্যবাধকতা: পছন্দক্রম দেওয়ার পর আপনার মেধা ও পছন্দ অনুযায়ী যদি কোনো নির্দিষ্ট বিভাগে ভর্তির জন্য আপনি নির্বাচিত হন, তবে সেই বিভাগে অবশ্যই ভর্তি হতে হবে।
৩. প্রার্থিতা বাতিল: যদি কোনো শিক্ষার্থী নির্বাচিত হওয়ার পরও সেই বিভাগে ভর্তি না হন, তবে ওই ইউনিটে তার প্রার্থিতা স্থায়ীভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। পরবর্তীতে ওই ইউনিটের অন্য কোনো মাইগ্রেশন বা ওয়েটিং লিস্টের সুযোগ তিনি পাবেন না।
সাবজেক্ট চয়েস দেওয়ার সঠিক পদ্ধতি (Step-by-Step Guide)
আমি অনেক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে দেখি যে সাবজেক্ট চয়েস দেওয়ার সময় তারা ভুল করে ফেলে। তাই নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
-
লগইন: প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ওয়েবসাইটে আপনার এইচএসসি রোল ও বোর্ড দিয়ে লগইন করুন।
-
তালিকা বাছাই: আপনার ইউনিটের আওতাধীন বিভাগগুলোর একটি তালিকা দেখতে পাবেন।
-
অগ্রাধিকার নির্ধারণ: আপনার ক্যারিয়ার লক্ষ্য অনুযায়ী পছন্দসই বিভাগগুলোকে ক্রমানুসারে (১, ২, ৩…) সাজান।
-
চূড়ান্ত জমাদান: তালিকাটি পুনরায় পরীক্ষা করে ‘Submit’ বাটনে ক্লিক করুন এবং ডাউনলোড কপিটি নিজের কাছে সংরক্ষণ করুন।
সাবধানতা ও সময় সচেতনতা
পরিশেষে বলা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ২০২৫-২৬ এর এই পর্যায়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। সামান্য একটি ভুলের কারণে আপনার একটি বছরের পরিশ্রম বিফলে যেতে পারে। তাই কোনোভাবেই ২৮ ফেব্রুয়ারির জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত আপনার পছন্দক্রম পূরণ করে ফেলুন। বিশেষ করে মাইগ্রেশনের বিষয়টি মাথায় রেখে সাবজেক্ট চয়েস দিন। আপনার স্বপ্নপূরণের এই যাত্রা সফল হোক—এটাই আমার কামনা।
মূল শিক্ষা:
-
সাবজেক্ট চয়েস দেওয়ার সময়সীমা: ২২-২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
-
চয়েস না দিলে বা নির্বাচিত হওয়ার পর ভর্তি না হলে প্রার্থিতা বাতিল হবে।
-
শুধুমাত্র অনলাইন মাধ্যমেই পছন্দক্রম পূরণ করা যাবে।
আপনার কি কোনো নির্দিষ্ট ইউনিটের সাবজেক্ট চয়েস বা পছন্দের তালিকা সাজানো নিয়ে প্রশ্ন আছে? কমেন্টে আমাদের জানান, আমাদের টিম আপনাকে গাইড করবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ):
প্রশ্ন ১: আমি যদি নির্দিষ্ট সময়ে চয়েস না দিই, তবে কি ওয়েটিং লিস্টে থাকব? উত্তর: না, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পছন্দক্রম পূরণ না করলে আপনার প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যাবে এবং ভর্তির আর কোনো সুযোগ থাকবে না।
প্রশ্ন ২: ভর্তির পর কি মাইগ্রেশন করা যাবে? উত্তর: হ্যাঁ, উপরের দিকের কোনো চয়েস খালি থাকলে অটো-মাইগ্রেশনের সুযোগ থাকে, তবে অবশ্যই আপনাকে আগে নির্দিষ্ট বিভাগে ভর্তি হতে হবে।
প্রশ্ন ৩: চয়েস দেওয়ার পর কি পরিবর্তন করা যায়? উত্তর: সাবমিট করার নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পরিবর্তনের সুযোগ থাকতে পারে, তবে একবার চূড়ান্ত সাবমিশন হয়ে গেলে সাধারণত আর পরিবর্তন করা যায় না।
আরও খবর: শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদান ২০২৬ আবেদন শুরু: নিয়মাবলী ও প্রয়োজনীয় তথ্যের পূর্ণাঙ্গ গাইড

